ডিভোর্স নিয়ে আলোচনার মধ্যেই এবার মুখ খুললেন ডলি সায়ন্তনী
দেশের সংগীতাঙ্গনের এক সময়ের জনপ্রিয় ও আলোচিত দম্পতি ছিলেন ডলি সায়ন্তনী ও রবি চৌধুরী। বিচ্ছেদের পর দুই তারকাই দীর্ঘদিন নীরব থাকলেও রবি চৌধুরীর বক্তব্যে নতুন করে আলোচনায় এ দম্পতি।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে সাবেক স্ত্রী ডলি সায়ন্তনীর বিরুদ্ধে বিপ্লব নামের এক ড্রাইভারের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছেন রবি। তিনি দাবি করেন, ডলি সায়ন্তনীর সঙ্গে তার সংসার ভাঙার পেছনে বিপ্লব নামের এক ড্রাইভারের ভূমিকা ছিল।
গায়কের দাবি অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির সঙ্গে ডলি পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি প্রমাণও হয়। তবে তার এ অভিযোগ, সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন ডলি।
বুধবার (৪ মার্চ) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘সম্প্রতি আমাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি নিয়ে কোনো বিতর্কে যেতে চাই না। সম্মান ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’
ব্যক্তিগত বিষয়কে অযথা আলোচনার বিষয় না বানানোর অনুরোধ জানিয়ে এ সংগীতশিল্পী লিখেন, ‘আমাদের নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের মতো আছি, বাকিটা সময়ের হাতে।’
‘তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই— যে ডিভোর্স প্রসঙ্গে নানা কথা বলা হচ্ছে, ডিভোর্স আমি দিয়েছিলাম। কেন দিয়েছিলাম সেটি এই মুহূর্তে আর বলতে চাই না,’ বলেন ডলি সায়ন্তনী।
বিচ্ছেদের কারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিভোর্স দেওয়ার পর সেই সময়েই প্রকাশ্যে প্রেস কনফারেন্সে বিস্তারিত বলে দিয়েছিলাম। অতএব এত বছর পর এসব নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই। মাহে রমজানে আল্লাহ সবাইকে পবিত্রতা রক্ষার তৌফিক দান করুক।’
উল্লেখ্য, আলোচিত পডকাস্টে রবি চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ডলির ফোনে একটি নম্বর ‘দুলাভাই’ নামে সেভ করা ছিল। বিষয়টি নিয়ে তার মনে সন্দেহ দানা বাঁধলে তিনি নিজ উদ্যোগে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। পরে জানতে পারেন ‘দুলাভাই’ পরিচয়ে সেভ করা ওই ব্যক্তির আসল নাম বিপ্লব এবং তিনি দক্ষিণ কোরিয়া প্রবাসী। সেখানে তিনি গাড়ি চালান। ডলি ও রবি যখন কোরিয়া সফরে গিয়েছিলেন, তখন এই বিপ্লবই তাদের গাড়ি চালাতেন।
সন্দেহ ঘনীভূত হলে রবি চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে ডলির পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি ডলির বড় ভাই কণ্ঠশিল্পী বাদশা বুলবুলকে ডেকে সেই ফোন নম্বরটি যাচাই করেন। তখন বেরিয়ে আসে যে ওই নামে তাদের কোনো দুলাভাই নেই। নিজের সন্দেহের চূড়ান্ত সত্যতা পাওয়ার পরই ডলিকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন রবি চৌধুরী।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: