আমরা এখন পর্যন্ত আশাবাদী, যথাসময়ে নির্বাচন হবে: শিবির সভাপতি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আমরা যতটুকু দেখছি, ১২ ফেব্রুয়ারি যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারের যে তৎপরতা তাতে আমরা এখন পর্যন্ত আশাবাদী যথাসময়ে নির্বাচন হবে। তবে বারবার যে কথা বলা হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য। যে পরিস্থিতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে করার কথা ছিল এখনও পর্যন্ত আমরা দুর্বলতা দেখছি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া শহরের মোল্লাতেঘরিয়া হাজী শরীয়তুল্লাহ অ্যাকাডেমিতে শিবিরের সাথী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ধারাবাহিক সিরিজ কিছু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শরীফ ওসমান হাদি থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে কিন্তু তার কোনো প্রতিকার নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতাও একবারেই দুর্বল অবস্থায়। একটা বড় দলের আন্তঃকোন্দলে ইতোমধ্যে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ তারা হত্যা করেছে। তারও বিচার করা হয়নি। এদের আবার গ্রেপ্তার করা হলে মব ক্রিয়েট করে আসামিদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নানা ধরনের অপকর্মগুলো দেখছি।
তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী চিন্তা করেছিলাম চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন করা হবে। কিন্তু কোনো জায়গায় কোনো রকম উন্নতি আমরা লক্ষ্য করছি না। আমরা আশাবাদী ছিলাম। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শক্ত অবস্থান না থাকার কারণে ধীরে ধীরে অপকর্মগুলো বেড়েই চলেছে। সেক্ষেত্রে আমাদের ভেতরে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রের চোরাচালান বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে মানুষের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করি, সরকার এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
শিবির সভাপতি বলেন, এখানে একটা বড় সমস্যা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নিয়োজিত রয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো স্ব-পদে বহাল রয়েছে। এ বিষয়ে বারবার ইসলামী ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সচিবালয়ে যেসব সচিব, জয়েন্ট সেক্রেটারি, উপসচিবরা বসা রয়েছে এর একটা বড় অংশ রয়েছে আওয়ামী দোসর। আওয়ামী দুর্বৃত্তপনার সঙ্গে যারা জড়িত ছিল। তাদেরকেও স্ব পদে বহাল রাখা হয়েছে। এদের মাধ্যমেই সামনের একটি নির্বাচন পরিচালনা করতে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রুট লেভেলে প্রশাসনের কোনো রদবদল হয়নি। আওয়ামী আমলে যারা নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছিলেন তারাই আবার নির্বাচন করছেন। সুতরাং, যে ধরনের অরাজকতা হচ্ছে সরকারের কিছু ক্ষেত্রে স্বদিচ্ছা থাকলেও রুট লেভেলে প্রশাসন রেসপন্স করছে না। তাদের বদলির পর যেভাবে প্রশাসনে নতুন রিকুইটমেন্ট করার দরকার ছিল একটি বিপ্লবী সরকার হিসেবে তা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এর দায় সরকারকে নিতে হবে। নির্বাচনে জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, ভোট দিতে পারে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত সরকারকেই করতে হবে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জামায়াত ইসলাম ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক নয়। আমরা বলেছি, প্রশাসন যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে না যায়। কিন্ত প্রশাসন এক পক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উঠে পড়ে লেগেছে। সব মিলিয়ে সরকারের পক্ষে এটা একটা বড় চেলেঞ্জ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সামনে কি রকম একটা নির্বাচন দিতে পারে মূলত সেটার প্রতিফলন হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার থেকে শুরু করে এজেন্সি যারা রয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আহ্বান জানাই, তারা যদি পূর্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে তাহলে এটা তাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতির কারণ হবে। কিছুদিন আগেই জুলাই বিপ্লব হয়েছে, রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। এই বিপ্লবের ওপর দাড়িঁয়ে যদি আবার কেউ প্রতারণা করতে চায় এর দায় সম্পূর্ণ তাদের নিতে হবে। আমরা বলে রাখছি, জনরোষ থেকে তারা কিন্ত মুক্তি পাবে না।
এ সময় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম, সেক্রেটারি সুজাউদ্দিন জোয়ার্দ্দর, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: