যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ‘গরু চুরির’ স্ট্যাটাস, যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১১:০৩ এএম

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মো. ইদ্রিস (৪৫) নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের অমানুষিক নির্যাতনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহত ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে তার মরদেহ কলাপাড়া থানায় নিয়ে আসা হয়।

স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস তার ফেসবুক আইডিতে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরিসহ বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হন জহিরুল। সম্প্রতি ইদ্রিস ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরলে জহিরুল ও তার অনুসারীরা তাকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইদ্রিস পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে ডেকে স্থানীয় যুবদল কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে আটকে রেখে শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিসোঁটা দিয়ে ব্যাপক মারধর ও জখম করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। প্রথমে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে বাসায় নেয়া হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, সোমবার রাত ১০টার দিকে বাসায় অবস্থানকালে ইদ্রিস হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, যুবদল নেতার সেই নির্মম নির্যাতনের কারণেই অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। তার দাবি, ‘ইদ্রিস আমার কাছে মাফ চাইতে এসেছিলেন, তাকে বা তার সহযোগীদের ওপর কোনও হামলা করা হয়নি।’

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ‘লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর