১ জুলাই শুরু হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০১ জুলাই ২০২৬ ১১:০৭ এএম

সংগৃহীত ফটো

ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই শুরু হয়েছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যা পরবর্তীতে 'জুলাই আন্দোলন' বা 'জুলাই বিপ্লব' নামে পরিচিতি পায়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন, তা শেষ পর্যন্ত এক ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আজ সেই ঐতিহাসিক গণজাগরণের সূচনার দ্বিতীয় বার্ষিকী স্মরণ করছে গোটা জাতি।
 
প্রথমদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল কেবল সরকারি চাকরিতে মেধার মূল্যায়ন এবং বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার। কিন্তু শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনে তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের সহিংস হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে থাকে।
 
জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এসে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হলে শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারান। রক্তক্ষয়ী এই দমন-পীড়নের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আর কেবল কোটা সংস্কারের দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সারা দেশের আপামর ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এলে তা অচিরেই সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে পরিণত হয়।
 
বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুরোপুরি পাল্টে দেয়। শিক্ষার্থীদের অকাতর আত্মত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মুখে শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।
 
দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে ২০২৪ সালের ১ জুলাই তাই কেবল একটি সাধারণ তারিখ নয়, বরং অন্যায়, নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক অবিস্মরণীয় দিন। আজ দেশজুড়ে গভীর শ্রদ্ধা ও শোকের সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে সেইসব অকুতোভয় বীরদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে এই জুলাই আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়েছিল।

LIMON

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর