১৮ দিনে ৪৬ উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা করেছে বিএনপি, ধর্ষণেরও হুমকি

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০২ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হেনস্তা, হুমকি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি শুরু হয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার।

এরপর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের অন্তত ৪৬টি উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীরা বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটেছে।

গণমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন। জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা নারীর পেটে লাথি মারা, চড়-থাপ্পড়, গালিগালাজ, কান ছিঁড়ে দেওয়া, গায়ের কাপড় ও হিজাব খুলে নেওয়া, ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ায় নারী কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ্যে যৌন হুমকি দিচ্ছেন এবং নিয়মিত সাইবার বুলিং করা হচ্ছে। তবে দলের নেতাকর্মীদের অব্যাহত এসব নারী নিপীড়নের ঘটনায় বিএনপি পুরোপুরি নিশ্চুপ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর বাউফলে জামায়াতে ইসলামীর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন সেক্রেটারি আমিরুল ইসলামকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার পর অপহরণ করে নিয়ে যায় বিএনপি নেতাকর্মীরা। সে সময় তাঁর স্ত্রী, যিনি ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল, তাঁর ওপরও পাশবিক আক্রমণ চালানো হয়। সন্ত্রাসীরা ওই গর্ভবতী নারীর পেটে লাথি মেরে গুরুতর জখম করে। পরে তাঁকেসহ আহত জামায়াত কর্মীদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১টার দিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার ধুলিয়ানী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারপুর গ্রামে নারীদের কাছে প্রচারে যান জামায়াতের নারী কর্মীরা। এ সময় স্থানীয় আইতাল হোসেন ও বাদলের বাড়ির সামনে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী ইব্রাহিম হোসেন, লিয়াকত আলী, শিমুল হোসেন ও কবির হোসেন হামলা চালিয়ে জামায়াতের নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করেন এবং মোবাইল, খাতা ও কাগজপত্র কেড়ে নেন।

অপরদিকে, চৌগাছা উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাঠচাকলা গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে গেলে পুরাতন মসজিদসংলগ্ন স্থানে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী শাহাবুদ্দীন, মুকুল ও মন্টু রহমান জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করেন এবং মোবাইল ও কাগজপত্র কেড়ে নেন। এসব ঘটনার প্রমাণ পেয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র সিভিল জজ গোলাম রসুল।

৬ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালী জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা আমির ইসহাক খন্দকার জানান, জেলার চাটখিল, বেগমগঞ্জ, সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা ও সুবর্ণচরসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের উঠান বৈঠক ও প্রচারণায় বিএনপি ও তাদের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাধা দিচ্ছেন।

গত ২২ জানুয়ারি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারের সময় জামায়াতের নারী কর্মীদের পথরোধ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও ধর্ষণের হুমকি দেয় বিএনপি সমর্থকরা। এতে কয়েকজন নারী কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

একই দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বরইতলায় উঠান বৈঠকের দাওয়াত দিতে গেলে বিএনপি কর্মী সালাম শরীফ এক নারী কর্মীকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। পরদিন তাঁর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ওই নারী কর্মীর বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

২৬ জানুয়ারি লালমনিরহাট-১ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে মহিলা জামায়াতের কর্মীদের হিজাব খোলার চেষ্টা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আহত হন। পরে হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেডিকেল মোড়সংলগ্ন কসাইটারী এলাকায় সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার জানান, জামায়াতের নারী কর্মীদের হিজাব খুলতে চাওয়াকে কেন্দ্র করেই এ সংঘর্ষ হয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর