চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে নির্যাতনের ঘটনায় জামায়াতের নিন্দা
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকায় চাঁদা না পেয়ে ঠিকাদারকে নির্যাতন চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “গত শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ এলাকার ঠিকাদার নিজাম উদ্দিনকে ইফতারের পর মসজিদ থেকে তুলে নিয়ে আটক করে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাঁকে ৪/৫ ঘণ্টা ঝুলিয়ে নির্যাতন চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। আমি এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার জনাব নিজামউদ্দিন সাংবাদিকদেরকে জানিয়েছেন যে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি ফয়েজ আহমেদ শাহিন কিছু দিন যাবৎ তার কাছে ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে ফয়েজ আহমেদ শাহিন ও তার ক্যাডার বাহিনী তাঁকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর মসজিদ থেকে ধরে তাদের টর্চার সেলে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে উলটো করে ঝুলিয়ে ৪/৫ ঘণ্টা নির্যাতন চালায়। ফলে তাঁর নাক-মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সন্ত্রাসীরা হাসনাবাদ পোস্তগোলা ব্রিজের নীচের রাস্তায় তাঁকে ফেলে চলে যায়। এ ঘটনার দ্বারাই বুঝা যাচ্ছে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আবার দেশে নতুনভাবে চাঁদাবাজি, জুলুম-নির্যাতন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। দেশ আবার দ্রুত নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের দিকে জোর কদমে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশবাসী সকলেই অবগত আছেন যে, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিএনপিসহ সকল রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ছিলো সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজ মুক্ত দেশ গড়া। কিন্তু তারা ক্ষমতায় এসেই আবার আওয়ামী ফ্যাসিবাদীদের দেখানো পথেই অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান ক্ষমতাসীনরা আওয়ামী লীগের পতন থেকে কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করেনি।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য আমি সরকারের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।”

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: