জামায়াত আমিরের এক্স হ্যাকে আটক কর্মকর্তার পাশে ছাত্রদল সভাপতি
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ আটক বঙ্গভবনের সরকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমের পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই কর্মকর্তার জামিন দাবি করেছেন তিনি।
রাকিব অভিযোগ করেছেন, সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করে বঙ্গভবনের ওই কর্মকর্তাকে ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়। এখন ৩৫ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো তাকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। আমাদের দাবি হল, অনতিবিলম্বে তাকে ম্যাজিস্ট্রেট এবং সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে।’
রাকিব বলেন, ‘সংবিধান ও সিআরপিসি অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডার ছাড়া ২৪ ঘণ্টার বেশি কাউকে আটক রাখা যায় না। জামায়াতের আমিরের ক্ষমতার বলি হচ্ছে একজন নিম্নপদস্থ চাকরিজীবী।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই লোকটা যেহেতু বেআইনিভাবে আটক আছে, এখন আইনের বিধান হচ্ছে, ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জামিনে মুক্তি দেবেন।’
এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশের সরকারি কোয়ার্টারে অভিযান চালিয়ে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ার আলমকে আটক করে ডিবি পুলিশের একটি দল।
তার আগে গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়। বঙ্গভবনের ই-মেইল ব্যবহার করে আইডিটি হ্যাক করা হয় বলে জানা যায়।
যদিও বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জামায়াত আমির স্বয়ং পোস্টটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার নাটক করছেন। এছাড়া বিভিন্ন মহল থেকেও শুরু হয় তুমুল সমালোচনা।
এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে জামায়াতের পক্ষ থেকে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ছওয়ার আলমকে আটকের পর তাকেসহ ২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলাও করা হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: