৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে সড়কে ঝরল ১৯ প্রাণ

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৩ পিএম

৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে সড়কে ঝরল ১৯ প্রাণ

দেশের ৩ জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত গভীর রাত থেকে রোববার (২২ মার্চ) বেলা ১১টা পর্যন্ত কুমিল্লা, ফেনী ও হবিগঞ্জে এসব প্রাণহানি ঘটে।

এরমধ্যে কুমিল্লায় বাস-ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি হবিগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পিকআপ ভ্যান উল্টে নারীসহ ৪ জন এবং ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন।

কুমিল্লা

ঈদের দিন গভীর রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ ছাড়াও ২ জন নারী ও তিন শিশু রয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ওয়ান আপ ট্রেন কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং এলাকায় পৌঁছালে রেললাইনের ওপরে থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। ওই সময় বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায় ট্রেন।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ট্রেনের যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেল গেইটের সিগন্যাল ম্যানের অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনা পর ট্রিপল নাইনে অনেকবার ফোন দিলেও কেউ রেসপন্স করেনি। এ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এ ঘটনায় পৃথক ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে এ ঘটনায় হেলাল ও মেহেদী হাসান নামে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়াও মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অজয় ভৌমিক জানিয়েছেন, আমরা এ পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জনের মরদেহ পেয়েছি। ইতোমধ্যে দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে বাকি ১০ জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

হবিগঞ্জ

কুমিল্লায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হবিগঞ্জে ৪ জন নিহত হয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) ভোরে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান উল্টে রাস্তার পাশের খালে পড়ে গেলে এই প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের মধ্যে এক নারী ও এক কিশোরসহ চারজন রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে মাধবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওই সময় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের ডান পাশে একটি ডিআই পিকআপ খালে উল্টে থাকতে দেখা যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, গভীর রাতে অথবা ভোরের কোনো এক সময় পিকআপ ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রেকার দিয়ে পিকআপটি উদ্ধার করা হয়। ওই সময় গাড়ির ভেতর থেকে এক নারী ছাড়াও ১২ বছর বয়সী এক কিশোরসহ ২ জন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ফেনী

ফেনীতে বাস-অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। একই দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। রোববার ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনের কাজ চলছিল। ওই সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীর গতিতে পার হচ্ছিল। এই অবস্থায় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়।

বিষয়টি নিয়ে বাস-অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেলসহ আরও কিছু বাসের জট লেগে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই পেছন থেকে বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হলে এক মোটরসাইকেল আরোহী ছাড়াও বাসের সুপারভাইজার ও এক যাত্রী নিহত হন। হতাহতদের নাম-পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।

এদিকে ফেনী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাৎ হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাসকে সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

এআরএস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর